মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের দ্বিমুখী নীতি: একদিকে আলোচনার আশ্বাস, অন্যদিকে রণসজ্জা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে এসে এক রহস্যময় ও নাটকীয় মোড় নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রণকৌশল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় সম্ভাব্য ভয়াবহ হামলা ৫ দিনের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দিলেও পর্দার আড়ালে মধ্যপ্রাচ্যে সৈন্য সমাবেশের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে পেন্টাগন। রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট লিবার্টি (সাবেক ফোর্ট ব্র্যাগ) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর এলিট ‘৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন’-এর হাজার হাজার সেনাকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে।
বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মাত্র ১৮ ঘণ্টার নোটিশে প্যারাশুট হামলার সক্ষমতা রাখা এই দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী বা ‘র্যাপিড রেসপন্স ফোর্স’ মোতায়েন নিয়ে ওয়াশিংটনে গুঞ্জন তুঙ্গে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরাসরি ইরানে এখনই সেনা না পাঠালেও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘খার্গ দ্বীপ’ (ইরানের ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি কেন্দ্র) কিংবা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে এই এলিট বাহিনীকে ব্যবহার করা হতে পারে। ইতোমধ্যে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে প্রায় ১,০০০ থেকে ৩,০০০ সেনা সদস্যকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে ‘গঠনমূলক আলোচনা’ চলছে এবং এর প্রেক্ষিতেই তিনি জ্বালানি স্থাপনায় হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। তবে তেহরান এই দাবিকে স্রেফ ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ ও ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আলোচনা হচ্ছে না। বরং তারা হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার এবং পারস্য উপসাগরে মাইন বসানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
গত সপ্তাহে ইউএসএস বক্সার নামক উভচর যুদ্ধজাহাজের নেতৃত্বে ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের কয়েক হাজার মেরিন ও নৌসেনা মধ্যপ্রাচ্যের পথে রওনা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও বেশ কিছু বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ। সব মিলিয়ে এই অঞ্চলে বর্তমানে মার্কিন সেনার সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজারে গিয়ে ঠেকেছে, যা ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর বৃহত্তম সামরিক সমাবেশ।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতার ইতিহাস ১৯৫০-এর দশকে স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকেই শুরু হয়। ১৯৭১ সালে ব্রিটিশরা এই অঞ্চল থেকে সরে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এখানে নিজের প্রভাব সুসংহত করে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান-মার্কিন সম্পর্ক চিরস্থায়ী দ্বন্দ্বে রূপ নেয়।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের বিপ্লব পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশের’ মানুষ যখন যুদ্ধবিরোধী অবস্থানে অনড়, তখন ২০২৬ সালের এই প্রেক্ষাপট বিশ্বকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। ১৯৫০ সালে যা ছিল স্রেফ জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ, ২০২৬ সালে তা রূপ নিয়েছে ড্রোন হামলা, এআই চালিত যুদ্ধ এবং ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মতো পূর্ণাঙ্গ এক ধ্বংসযজ্ঞে। ডা. শফিকুর রহমানের মতো বিশ্বনেতারা যখন শান্তির আহ্বান জানাচ্ছেন, তখন ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী নীতি মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সূত্র: ১. রয়টার্স (Reuters) ও সিবিএস নিউজ (CBS News) এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট (মার্চ ২০২৬)।
২. পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউস প্রেস ব্রিফিং।
৩. আল জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ান: মিডল ইস্ট ক্রাইসিস আপডেট।
৪. জাতীয় আর্কাইভস: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের ইতিহাস (১৯৫০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |